অনেকদিন বাংলায় কিছু লিখিনা তাই, আজকে একটু সাহস জুগিয়ে বসে পড়লাম। আশা করি আমার বাংলায় বানান ভুল আর অন্যান্য ভুল গুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। প্রায় ১০ বছর পর বাংলায় এত বিশাল কিছু লিখতে বসেছি, তাই আমার জন্য গুছিয়ে লেখাটা একটু কঠিন হবে।

পটভূমিঃ
আব্বু আম্মু এবং আমার ছোট ভাইকে (সাজিদ) নিয়ে ৫ দিন এর জন্য ইউরোপ কয়েকটা দেশ ভ্রমণে বের হয়েছিলাম। এই ভ্রমণে অপ্রাপ্তির জায়গাটা হল, আমার ছোট ২ ভাই আর আমার সহধর্মিণী আমাদের সাথে না থাকা। সব টিক থাকলে আমার সহধর্মিণী ও আমাদের সাথে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কাজ থেকে ছুটি নিতে না পারায় সে আমাদের সাথে যেতে পারে নাই।

আমার আব্বু, আম্মু ও সাজিদ প্রথম বার সুইডেনে এসেছেন, তাই আমার ইচ্ছা ছিল ওদেরকে যত বেশি জায়গা দেখানো যায়, আমি দেখানোর চেষ্টা করব। এইসব কারণে আমার প্ল্যানিং এ কিছু ফাঁকা জায়গা রেখেছিলাম, ভেবেছিলাম সুযোগ পেলে নতুন কোন জায়গায় ওদেরকে নিয়ে যাব। ওনাদের বয়সের কারণে আমি ভেবেছিলাম, ওনারা দীর্ঘযাত্রাতে অনাগ্রহ দেখাবে, কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে আমার বাবা-মা অনেক আগ্রহ দেখিয়েছে, কারণ আলহামদুলিল্লহ আমরা এত জায়গায় ভ্রমণ করলাম, আব্বু আম্মু একবার এর জন্য ও বলে নাই ওরা পারছে না। তবে ভ্রমণের শেষের দিকে আব্বা ভেবেছিল আমার উপর অনেক বেশি প্রেশার হচ্ছে তাই সুইজারল্যান্ড গিয়ে রাইন জলপ্রপাত (Rhine Falls) দেখার যে প্ল্যান ছিল তা বাদ দিতে হয়।

নির্ধারিত যাত্রাপথঃ

ভ্রমণের প্রথম দিনঃ (২০ জুলাই, ২০২৩)

সুইডেন থেকে পোল্যান্ড যাব জাহাজ (Stena Line Cruise) এ করে। জাহাজ ভ্রমণ নিয়ে সবার মধ্যেই এক ধরণের উত্তেজনা কাজ করছিল, আমার আব্বু আবার চিন্তা করছে জাহাজ এ করে মাঝ সমুদ্রে যাবার পর যদি ঝড় অথবা তুফান হয় তাহলে কি হবে 😅। মজার ব্যাপার হল আমার আব্বু খুব সাহস নিয়েই যাচ্ছিল, তবে যাত্রা শুরু করবার আগে আমরা যখন বাস ষ্টেশনে দাড়িয়ে ছিলাম, তখন এক বড় ভাই আর তার পরিবার এর সাথে দেখা হয়। ভাইয়া আমার আব্বু আম্মুর সাথে দেখা হবার পর, তার জাহাজে করে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে, এতেই বাধে বিপত্তি। তিনি বলেন জাহাজে করে যাওয়ার সময়, তার কয়েকবার ঝড় এর মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল, আমাদের কে বললেন ওইরকম কিছু হলে আগে থেকে যেন বমির ওষুধ খেয়ে নেয়। আমি আমার বড় ভাইকে অনেকক্ষণ ধরেই ইশারা দিচ্ছিলাম যাতে উনি এই ঘটনা না বলে, কিন্তু খেয়াল করে নাই, আর আমি আমার আব্বুকে দেখলাম চিন্তাতে পড়ে গেছে।আমরা অনেক বুঝালাম, এইরকম ঘটনা গরমকালে হয় না, ভাইয়া শীতকালের কথা বলছে, আব্বু আর আমার কথা বিশ্বাস করে না। কি আর করা, আব্বুকে ওই চিন্তিত অবস্তাতেই নিয়ে যেতে হল।

যাই হোক, আমরা “Stena Line” এর একদম নতুন যে মডেলটা (https://stenaline.com/media/stories/stena-estelle-the-newest-and-largest-ship-in-stena-lines-fleet-in-the-baltic-sea-is-now-officially-named/#:~:text=Stena%20Estelle%20officially%20entered%20the,2022%20at%2021%3A00.) গত বছর থেকে চালু হয়েছে ওইটার টিকেট পেয়েছি। জাহাজে উঠার সময়, বোর্ডিং পাস নেয়ার সময় আমরা এইটা জানতে পারি। বাল্টিক সাগরে এই জাহাজটাই এখন সবচেয়ে বড়।


সবাই মিলে পুরো জাহাজটা ঘুরে দেখলাম। ৪ টা সিনেমা দেখার হল আছে। বাচ্চাদের খেলার জায়গা আছে বেশ কয়েকটা। জাহাজের ছাদে সবাই মিলে সূর্যাস্ত দেখলাম এবং সময়টাকে মোবাইল এর ফ্রেমে বন্ধি করলাম। নিজেদের ও কিছু ছবি তুললাম। সবচেয়ে বেশি ছবি তুললো সাজিদ, আমার মনে হয় আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আনন্দ করেছে আমার ছোট ভাই।

আব্বু-আম্মু কে রুমে রেখে ও আমরা দুই ভাই কিছুক্ষণ ঘুরলাম। ছাদের একপাশে একটা রেস্তোরাতে গান-বাজনা হচ্ছিলো, আমার ভাই আমাকে অনেকক্ষণ অনুরোধ করলো কিছুক্ষণ সময় ওইখানে থাকার জন্য, কিন্তু রাত অনেক হয়ে যাওয়াতে আমি ওর কথাটা রাখতে পারি নাই। তার উপর রাতের খাবার খাওয়ার ও সময় হয়ে গিয়েছিল।

আমার সহধর্মিণী আমাদের জন্য বিফ বিরিয়ানি এবং কাবাব রান্না করে সাথে দিয়ে দিয়েছিল। রাতের খাবার খেয়ে আমরা ঘুমাতে গেলাম। আমার আব্বু ছাড়া বাকিরা সবাই ভালই ঘুমাইছি। আব্বু ঝড়কে পাহাড়া দিচ্ছিল, ঝড় আসলে আমাদেরকে ডেকে দিবে 😛। মোবাইলে অ্যালার্ম দিয়ে রাখলাম, ভোর ৫ টায় উঠতে হবে। আনুমানিক ভোর ৭.৩০ এর দিকে আমরা গেদেনিয়া (Gdynia) বন্দরে পৌঁছাব।

ভ্রমনের দ্বিতীয় দিনঃ (২১ জুলাই, ২০২৩)

সকাল হল সবাই ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিলাম। প্ল্যান করলাম গেদেনিয়াতে নেমে বাস এবং ট্রেনে করে আমরা গেদান্সক (Gdańsk) এয়ারপোর্টে যাব, এরপর ওইদিন এর বাকি সময়টার জন্য গাড়ি ভাড়া করব কারণ বাস, ট্রাম এবং ট্রেনে দৌড়াদৌড়ি করে আমার বাবা-মা পারবে না। আবার হেঁটে হেঁটে ট্যুরিস্ট স্পট গুলো ঘুরে বেড়ানোর জন্য ওদের শক্তি সঞ্চয় করে রাখা টা জরুরী।

গেদান্সক (Gdańsk) এয়ারপোর্টে গিয়ে কয়েকটা কার-রেন্টাল কোম্পানির সাথে কথা বললাম। ইউরোপে গ্রীষ্মকালে অনেক মানুষ ভ্রমণ করে, যার কারণে বাজেটের মধ্যে গাড়ি পাওয়া অনেক কঠিন। যাই হোক এই ভ্রমণে আমার মূল ইচ্ছা ছিল যত বেশি জায়গা আমি ওদেরকে দেখতে পারি, টাকার দিকে খুব বেশি তাকাই নাই, আর আব্বুকে ও বলি নাই খরচের কথা। আমার আব্বু অতিরঞ্জিত খরচ একদমই পছন্দ করেন না। গাড়ি লাগবে ৪ ঘণ্টার জন্য, কিন্তু আমার নিতে হল ১ দিনের জন্য বুঝেন অবস্থা। গাড়িটা ভালই ছিল, সবাই অনেক পছন্দ করেছে, দেখতে ও ভাল আবার আরামদায়ক ও।

এই ভ্রমণে আমি খুব বেশি চিন্তায় ছিলাম, সবকিছু ঠিকঠাকভাবে করতে পারব কিনা তা নিয়ে। যার কারণে, আমার নিজের ছবি তোলার কথা একদমই মাথায় থাকত না। আম্মু মাঝে মাঝে মনে করিয়ে দিলে তখনি কেবল কিছু ছবি তোলা হয়েছে। এইটা আমার একদমই স্বভাববিরোধী, সাধারণত আমি প্রচুর ছবি তুলি।
গাড়িতো নিলাম এখন বেড়ানোর পালা। প্রথমে চলে গেলাম গেদান্সক (Gdańsk) এর পুরানো শহরে, কারণ ভ্রমণ পিয়াসুদের জন্য এই জায়গাটা খুবই রোমাঞ্চকর। ওইখানের সব প্রাচীনতম নিদর্শন আমরা অনেকক্ষণ ধরে ঘুরে ঘুরে দেখলাম।

গেদান্সক (Gdańsk) এর পুরানো শহর দেখার পর আমরা চলে গেলাম সপত (Sopot) শহরের সপত নামের সমুদ্র সৈকত দেখতে। টুরিস্ট জায়গা গুলোতে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার মত বালাই আর নাই, গাড়ি কই রাখব, গাড়ি রাখার নির্দিষ্ট স্থান খুঁজে পেলে সেখানে আবার খালি জায়গা থাকে না। অনেকক্ষণ ঘুরে ঘুরে জায়গা পেলাম, তারপর নামল বৃষ্টি। ভাগ্য ভাল বৃষ্টি ১০মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় নাই। এর মাঝে আর একটা গাড়ি এসে আমার গাড়ির পিছনে রাখল দেখলাম বাবা মা আর ২ টা ছোট বাচ্চা, আমাদের মত পরিবার, খালি আমি ওদের থেকে ২-১ বছরের বড় হব 😛।

যাই ওই ভদ্রলোক আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, গাড়ি ওইখানে পার্ক করা যাবে কিনা, আমি বললাম আমি ও ওদের মত টুরিস্ট, সুইডেন থেকে এসেছি, শুনে ভদ্রলোক আমার সাথে সুইডিশ ভাষাতে কথা বলা শুরু করল, আমি সুইডিশ ভাষাতে বললাম আমি সুইডিশ পারি না। আমার কথা শুনে লোকটা বেক্কল হয়ে গেল, আমাকে বিশ্বাস করল কিনা কে জানে। যাই হোক ইংরেজিতে বললাম, আপনি এইখানে পার্ক করতে পারবেন, তারপর দেখালাম আমাদের মত আর ও অনেকেই পার্ক করেছে।

যাই হোক, বৃষ্টি থামার পর আমরা সমুদ্র সৈকত দেখতে বের হলাম। এই সমুদ্রটি আমার দেখা সেরা সমুদ্র সৈকত গুলোর একটা, এক কথায় অসাধারণ।

পার্কিং থেকে সমুদ্রতে হেঁটে যাওয়ার পথে খুব সুন্দর একটা পার্ক, পার্কের কাছেই একটা বিশাল হোটেল (Grand Hotel or Sofitel Grand Sopot)।

সমুদ্র দেখা হল, এরপর আমরা দুপুরের খাবার খেতে একটা রেস্তোরাতে গেলাম। রেস্তোরা থেকে বের হয়ে আমরা চলে গেলাম এয়ারপোর্টে, গাড়ি ফেরত দিতে। গাড়ি নেয়ার সময় আমাকে একটা ম্যাপ দিয়ে বলে দিয়েছিল কোথা থেকে গাড়িতে তেল নেয়া যাবে এবং কোথায় গাড়িটি পার্ক করা যাবে। গাড়িটা নির্ধারিত স্থানে রেখে, গাড়ির কিছু ছবি তুলে নিলাম এরপর গাড়ির চাবি রেন্টাল কোম্পানি এর একজনকে ফেরত দিলাম।

এয়ারপোর্টের তত্ত্বকেন্দ্র খোঁজ নিলাম কিভাবে ট্রেন ধরে আমাদের পরবর্তী গন্তব্যস্থল পোল্যান্ড এর রাজধানী ওয়ারশ (Warsaw) যাওয়া যায়। আমাকে একটা কাগজে লিখে দিল গেদান্সক (Gdańsk) এর কোন ষ্টেশনে গেলে, আমি ট্রেন টা ধরতে পারব, এবং সাথে ট্রেন ছাড়ার সময় (সন্ধ্যা ৬.৩৯) ও লিখে দিল।

এরপর আমরা মেট্রোরেলের জন্য এয়ারপোর্টের প্লাটফর্মে দাড়িয়ে আছি, একটু পরে খেয়াল করলাম রেলটা সময়ের আগে এসে বসে আছে। আমি রেলের ভিতরে গেলাম, রেলের চালককে বললাম গেদান্সকের হযবরল (উচ্চারণ জানি না - Wrzeszcz) ষ্টেশনের টিকেট দিতে।যাই হোক ওই নির্দেশনা দেয়াটা এতটা সহজ ছিল না। পোল্যান্ডের মানুষ সাহায্য করার যথেষ্ট চেষ্টা করে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমি ইংরেজি জানা মানুষ পোল্যান্ডে পাই নাই, যার থেকেই সাহায্য চাই, সে-ই ইশারাতে সব বুঝায়। ওই রেলের চালক ও এর ব্যতিক্রম ছিল না। ওকে মোবাইলে ছবি দেখিয়ে বুঝালাম কোথায় যাব। আমাদের ৪ জন এর জন্য টিকেট দিতে বললাম।

আব্বু-আম্মু আমি ট্রেনে আগে উঠে পড়ায় চিন্তায় পড়ে গেছিল, আমাকে নিয়ে ট্রেন চলে গেলে তারা কি বিপদেই না পড়বে। যাই হোক, তাদের চিন্তার মাঝখানেই ডাক দিলাম, মেট্রোরেলে সবাইকে উঠতে বললাম। এরপর আমরা গেদান্সক এর ওই হযবরল (উচ্চারণ জানি না - Wrzeszcz) ষ্টেশনে পৌছালাম। প্লাটফর্ম থেকে টিকেট কাউন্টারে গিয়ে ওয়ারশ (Warsaw) এর টিকেট কাটলাম।

নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেন আসল, আমরা সবাই ট্রেনে উঠলাম। আশেপাশে রেস্তোরা না পাওয়ায়, রাতের খাবার নিয়ে উঠা হল না। ভাবলাম ট্রেন থেকেই রাতের খাবার কিনে নিব। আমার আব্বু-আম্মু ইউরোপে আসার পর তাদের খাবার খাওয়া নিয়ে সমস্যা ছিল, তাই যেকোনো খাবার অর্ডার করা যাবে না।

আমি আর আমার ছোট ভাই গেলাম ট্রেনের যে বগিতে রেস্তোরা আছে ওইখানে। রাতের খাবার কিনতে গিয়ে ও আমাদের ভাষাজনিত ঝামেলায় পড়তে হয়। রেস্তোরার ক্যাশ কাউন্টারে ২জন পোলিশ মেয়ে অর্ডার নিচ্ছিল। ২জনের একজন ও ইংরেজি বলতে পারে না, এমনকি ওরা যখন “Yes or No” বলছিল, তখন ও ওরা আসলে যে কিছু না বুঝেই উত্তর দিচ্ছিল সেটা ও আমরা বুঝতে পারছিলাম। ভাই মহাবিপাকে পড়লাম, কি করে ওদের বুঝাই। যাই হোক ওদের মেন্যু দেখে বুঝার চেষ্টা করলাম কোনটা নিরামিষ, এইরকম অবস্থাতে আব্বু আম্মুর জন্য নিরামিষ খাবার কিনাই সবচেয়ে নিরাপদ।
একটা অপশন দেখে মনে হল বিফ হবে, আমি আর আমার ভাই ওইটা আমাদের ২ জনের জন্য নিব ভাবলাম। ওদের একজনকে ডেকে বুঝানোর চেষ্টা করলাম, আমরা এইটা অর্ডার করতে চাই এইটা কি বিফ? প্রত্যুতরে মেয়েটা শুকর এর মত ঘোঁত ঘোঁত শব্দ করে দেখালো, যে এইটা শুকর। বিষয়টা খুবই আকস্মিক ও হাস্যকর হওয়ায় আমরা সবাই হাসতে শুরু করলাম, কেও যে এরকম করে আমাদের কে অভিনয় করে দেখাবে এইটা আমরা ভাবতেই পারি নাই। যাই হোক এরপর মেয়েটাকে আমরা আবার বুঝানোর চেষ্টা করলাম গরুর কোন অপশন আছে কিনা, অথবা নিরামিষ। ভাগ্যিস একজন আমাদের ইচ্ছাটা শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছিল, নাহয় ওরা আবার গরুর মত হাম্বা হাম্বা করে কিনা ভাবছিলাম।

ওরা পরামর্শ দিল চিকেন ডাম্পলিং টাইপের একটা খাবার কিনতে, আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম সবাই ওইটাই খাব, অর্ডার করে আমাদের কেবিনে চলে আসলাম, ওরা বলল ৩০মিনিট পরে ওরা এসে খাবার পরিবেশন

করবে।

ত্রিশ মিনিট পরে একজন এসে খাবার দিয়ে গেল। আমাদের সবারই অনেক ক্ষুধা পেয়েছিল। আব্বু সবার প্রথমে খাবারের প্যাকেটটা খুলল, একটা ডামপ্লিং মুখে দিয়েই বলল অনেক টক টাইপের, খেতে পারবে না। চার জনের মধ্যে শুধুমাত্র আমিই খাবারটা খাইলাম। এরপর বাকিদের জন্য পাউরুটি, বাটার আর কোল্ড ড্রিঙ্কস নিয়ে আসলাম।

রাত দশটার দিকে পোঁছালাম ওয়ারশ (Warsaw) রেলষ্টেশনে। এরপর একটা ট্যাক্সি নিয়ে রওয়ানা হলাম হোটেল “হোটেলিক মডলিন” এর উদ্দেশ্যে। হোটেলটা ওয়ারশ (Warsaw) এয়ারপোর্ট থেকে ১০ মিনিট দূরত্বে অবস্থিত। হোটেলে পৌঁছানোর পর রিসেপশানিস্ট থেকে রুমের চাবি বুঝে নিলাম। ভাইবেন না যে আলোচনাটা খুব সহজ ছিল, ভদ্রমহিলাকে মোবাইলে ইংলিশ থেকে পোলিশ ভাষাতে রূপান্তর করে সব বুঝানো লাগছিল। এরপর ওনাকে বলে রাখলাম সকাল বেলা আমাদের জন্য ট্যাক্সির ব্যবস্থা করতে, ভদ্রমহিলা আমাদেরকে আশ্বস্ত করল যে টিক সকাল ৬.৩০টায় গাড়ি রেডি থাকবে। আমরা ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়লাম, অ্যালার্ম দিয়ে রাখলাম ভোর ৫ টায়।

ভ্রমনের তৃতীয় দিনঃ (২২ জুলাই, ২০২৩)

ভোরবেলা উঠে সবাই গোসল করে রেডি হয়ে গেলাম। ট্যাক্সি যথাসময়ে আসলো, আমরা রওয়ানা দিলাম এয়ারপোর্টের দিকে। এয়ারপোর্টে গিয়ে সকালের নাস্তাটা সেরে নিলাম। এরপর চেক-ইন এর কাজ সেরে আমরা বোর্ডিং এর অপেক্ষা করতে থাকলাম। এর মাঝে আমি কফিশপ থেকে কফি আর একটা চিকেন পিৎজা অর্ডার করলাম। এয়ারপোর্টের এই কফিশপে পিৎজা এবং আর ও কিছু স্ন্যাকস জাতীয় খাবার আছে। আমি খাওয়ার পর বাকিদের জন্য নিয়ে গেলাম।

কিছুক্ষণ পর বোর্ডিং এর জন্য ডাকল, ফ্লাইট যথাসময়ে ছাড়ল।

আমরা সকাল ১১.১০ নাগাদ কোলন-বন (Cologne Bonn) এয়ারপোর্টে পৌছলাম।

এরপরের গন্তব্য ফ্রাঙ্কফুর্ট এয়ারপোর্ট, ওইখান থেকে ২দিনের জন্য একটা গাড়ি ভাড়া নেওয়ার প্ল্যান। ফ্লিক্স বাসের টিকেট কাটলাম। দুপুরের খাওয়া দাওয়া সেরে নিলাম। এরপর বাসে করে চলে গেলাম ফ্রাঙ্কফুর্ট এয়ারপোর্ট। ওইখানে বেশ কয়েকটা রেন্টাল কোম্পানি এর সাথে কথা বলার পর সিদ্ধান্ত নিলাম “OK Mobolity” থেকে “MG HS model” এর গাড়িটা রেন্ট করব।

গাড়িটা নিয়ে রওয়ানা হওয়ার পর দেখলাম, আমাদের কাছে যেই ক্যাবল টা আছে, ওইটা দিয়ে মোবাইল গাড়ির “Apple Car Play” এর সাথে কানেক্ট করা সম্ভব না। খুবই ঝামেলায় পরে গেলাম, ম্যাপ ছাড়া তো অজানা জায়গায় গাড়ি চালানোই মুশকিল। ভাবলাম আশেপাশে কোন শপিংমলে যাই, মোবাইলে ম্যাপ বের করে কাছাকাছি “MyZeil” শপিংমলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম, মোবাইলটা দিলাম ছোট ভাই কে। আমার ছোট ভাই মোবাইল হাতে নিয়ে দিক নির্দেশনা দিতে থাকল।

আমাদের হাতে সময় তখন অনেক কম। ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে আমরা প্ল্যান করেছি, ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গ (Strasbourg) শহরে যাব, ওইখানে একটা হোটেল বুকিং দেয়া আছে। প্রাইভেট কারে করে স্ট্রাসবুর্গ যেতে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট লাগে। এর উপরে পুরো জার্মানি জুড়ে চলছে রোড কনস্ট্রাকশন। সবকিছু মিলিয়ে আমার জন্য একটা চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছিল।

শপিংমলটা অনেক সুন্দর ছিল, সময়ের অভাবে ঘুরে দেখতে পারলাম না। একটা মোবাইলের দোকান থেকে একটা পাওয়ার ব্যাংক এবং ক্যাবল কিনলাম।

এখন ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গ (Strasbourg) শহরের দিকে যাত্রার পালা। যাত্রা শুরুর আগে হোটেল এর রিসেপশান এ কল দিয়ে জানালাম আমাদের আসতে দেরি হতে পারে, এবং দেরিতে চেক ইন করার কারণ বলে দুঃখ প্রকাশ করলাম।

সৌভাগ্যবশত জার্মানির অটো-বানের গতিসীমা নেই, তাই আমার গাড়ি দ্রুত চালানোতে কোন বাঁধা ছিল না। আমি ঘণ্টায় ১৬০-১৮০ কিমি গতিতে গাড়ি চালিয়ে যখন স্ট্রাসবুর্গের হোটেলে পৌছালাম তখন ঘড়িতে কাঁটা কাঁটায় ১২ টা বাজে। যাত্রাপথে আমার আব্বু-আম্মু একটা কথা ও বলছিল না। ২ জনেই আল্লাহের কাছে প্রার্থনা করছিল যাতে আমরা সুস্থভাবে আমাদের গন্তব্যে পৌছাতে পারি। ৪ জনের মধ্যে নির্বিকার ছিল শুধু আমার ছোট ভাই, আমার মনে হয় সে খুব আনন্দই পাচ্ছিল।

পৌছানোর পর আমরা “Kyriad Direct Strasbourg Ouest -Zénith” হোটেলের রিসেপশানে দৌড়ে গেলাম, রিসেপশান অন্ধকার দেখে আমরা ঘাবড়ে গিয়েছিলাম, তবে ভিতরে প্রবেশ করার পর দেখলাম, ক্যাশ কাউন্টারে এক ভদ্রমহিলা বসে আছেন, যার সাথে ফোনে কথা হয়ছিল।

২ টা রুম এর চাবি নিলাম, এরপর প্রধান ফটক কিভাবে খুলব এবং গাড়ি কোথায় পার্ক করব জেনে নিলাম। এরপর রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম, সারাদিন ভ্রমণ করে সবাই ভীষণ ক্লান্ত ছিলাম, এখন একটা ভালো ঘুম দরকার।

ভ্রমনের চতুর্থ দিনঃ (২৩ জুলাই, ২০২৩)

সকাল বেলা উঠে ফ্রেশ হয়ে আব্বু-আম্মুর রুমে গেলাম, সাজিদ ফ্রেশ হয়ে আসতে আসতে আমার বাবা-মা, একটা ছবি তুলতে চাইল এই শহরে ওনাদের নিয়ে আর কি আসা হবে? মনে হয় না। আল্লাহ্‌ পাক সুযোগ দিলে নতুন কোন দেশে যাব ইনশা'আল্লাহ।

আমার এই জীবনে যা অল্প কিছু অর্জন তা আল্লাহের এই দুই ঈমানদার বান্দার বদৌলতে। বিদেশে থাকার কারণে তাদের যত্ন আমি নিজ হাতে নিতে পারি না, এর থেকে বড় আফসোস আমার জীবনে আর নাই।

সাজিদ আসল, আমরা সবাই নাস্তা করে নিলাম, আজকের প্ল্যান হল এই মধ্যযুগীয় (Medieval) শহরটাকে ঘুরে দেখা।

হোটেল থেকে চেক আউট করে নিলাম, এরপর চলে গেলাম আমাদের গন্তব্য: “Tour des Français”। ম্যাপে লাল দাগ দেয়া জায়গাতেই আমাদের গাড়িটিকে পার্ক করেছিলাম। এক ভবঘুরে আমাকে গাড়ি পার্ক করতে সহায়তা করল, বুঝতে পারলাম সে এই কাজ কিছু বখশিশ লাভের আশায় নিয়মিতই করে।

পুরো জায়গাটা দেখা শেষ হল, এখন দুপুরের খাবার খাওয়ার পালা। একটা রেস্তোরাতে গিয়ে দুপুরের খাওয়াটা সেরে নিলাম। এরপর আমাদের গন্তব্য জার্মানির হাইডেলবার্গ (Heidelberg) শহর। ভাবছেন কিভাবে? স্ট্রাসবুর্গ শহরটি ফ্রান্সের সীমান্ত ঘেষা, আর এই শহর থেকে প্রাইভেট কার করে হাইডেলবার্গ শহরে যেতে লাগবে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট এর মত। হাইডেলবার্গ শহরটি ভ্রমণপিয়াসু মানুষদের জন্য অসাধারণ একটা জায়গা, ছবির মত সুন্দর (Picturesque)।

হাইডেলবার্গ পৌঁছানোর পর সিদ্ধান্ত নিলাম প্রথমে ক্যাসল (Castle) দেখব। হাইডেলবার্গ ক্যাসলটি নদীপৃষ্ট থেকে ২৬০ ফুট (৮০ মিটার) উপরে অবস্থিত, এর সবচেয়ে পুরনো অংশটি ১২১৪ সাল এর আগে নির্মিত হয়েছিল। ক্যাসলটার কাছে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা ছিল, কোন বাড়তি খরচ লাগে না, আমি জানতাম না, তাই গাড়ি নিয়ে উঠা হয় নি। গাড়ি পার্ক করে রাখার পর আমরা সবাই হাঁটতে থাকলাম ক্যাসল এর সিঁড়ি বেয়ে, কিছুটা উঠার পর আব্বু-আম্মুকে কিছু ছবি তুলে দিলাম, এরপর আব্বু-আম্মুকে বললাম নিচে গিয়ে আমাদের জন্য অপেক্ষা করতে, কারণ এত উপরে হেঁটে উঠার পর ওদের আর অন্য কিছু দেখার শক্তি থাকবে না।

আমি নিজেই অর্ধেক গিয়ে ভাবছিলাম আর যাব কিনা, কারণ আমার আবার গাড়ি নিয়ে ম্যানহেইম শহরে যেতে হবে। ম্যানহেইম শহরে যাওয়ার প্রধান কারণ হল আমার বন্ধু সীমান্ত এর সাথে দেখা করা, অনেক দিন ওর সাথে দেখা হয় না। বোনাস হিসেবে ওদের ঘরের নতুন সদস্যকে ও দেখে আসতে পারব।

যাই হোক ছোট ভাইয়ের জোরাজুরির কারণে আমার এই আইডিয়া ধোপে টিকেনি। তবে উপরে উঠার পর মনে হল, উপরে না উঠলে পরে আফসোস করতাম, উপর থেকে পুরো শহরটাকে দেখতে স্বপ্নের মত লাগছিল। দুই ভাই কিছুক্ষণ মন্ত্রমুগ্ধের মত চারপাশের এই প্রকৃতিকে উপভোগ করলাম। তারপর কিছু ছবি তুলে নিচে নামতে থাকলাম, আব্বু আম্মু না এসে কি মিস টাই না করল।

হাইডেলবার্গের অন্যতম আরেকটি আকর্ষণ হল কার্ল থিওডোর ব্রিজ (Karl-Theodor-Brücke), সাধারণত “Old Bridge” নামে পরিচিত। নিচে নেমে আব্বু-আম্মুকে নিয়ে আমরা গাড়ির পার্কিং এর দিকে গেলাম। গাড়ি নিয়ে কার্ল থিওডোর ব্রিজের নিচেই একটা সরু রাস্তায় গাড়ি পার্ক করলাম।

ব্রিজটি নেকার নদীটি পার হওয়ার জন্য ব্যাবহার করা হয়। এটি পুরাতন শহরটিকে বিপরীত তীরে শহরের নিউয়েনহেইম (Neuenheim) জেলার পূর্ব অংশের সাথে সংযুক্ত করেছে। বর্তমান সেতু, নেকার বেলেপাথর দিয়ে তৈরি এবং সাইটে নির্মিত নবম সেতুটি ১৭৮৮ সালে ইলেক্টর চার্লস থিওডোর দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এবং এটি হাইডেলবার্গের অন্যতম বিখ্যাত ল্যান্ডমার্ক এবং পর্যটন গন্তব্য (তথ্যের উৎসঃ উইকিপিডিয়া)।

ব্রিজটা দেখার পর আমরা দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য একটা রেস্তোরাতে গেলাম। এরপর আমরা ম্যানহেইম শহরের দিকে রওয়ানা দিলাম। রাত হবার আগেই পৌছাতে চাই। সীমান্তকে কল দিয়ে ওর ঠিকানাটা জেনে নিলাম।

সীমান্তের বাসার নিচে গিয়ে ওকে আবার কল দিলাম। অনেক দিন পর বন্ধুকে দেখে খুবই ভাল লাগল। সীমান্ত এবং আমার ভার্সিটি এর বাকি বন্ধুদের সাথে ২০১৭ সালে শেষবার দেখা হয়েছিল, এর মধ্যে আর দেখা করার সময়-সুযোগ কোনটাই হয় নাই, জার্মানি এসে আর তাই সুযোগটা মিস করি নাই। আমার ভার্সিটির সব বন্ধুদের সাথে মা-বাবার দেখা না হলে ও, সবার সম্বন্ধে জানে। তাই আব্বু-আম্মু ও ভীষণ খুশি, যখন বললাম আমার বন্ধুর সাথে দেখা করতে যাব।

সীমান্ত নিচে এসে গাড়ি কোথায় পার্ক করব দেখিয়ে দিল। এরপর উপরে গেলাম, সীমান্তের বউ বৃষ্টি আর ওর মেয়ে সিয়ারা (Siara) এর সাথে দেখা হওয়ার পর আব্বু-আম্মুর খুশির পরিমাণ আর ও বেড়ে গেল। আব্বু-আম্মু সিয়ারাকে পেয়ে তাদের ও যে এইরকম একটা নাতি/নাতনি লাগবে, ওইটা আমাকে জানাই দিল। নির্লজ্জের মত হাসা ছাড়া, কিছুই বলতে পারি নাই।

বৃষ্টি আমাদের জন্য অনেক কিছু রেডি করছে, তারপর ও আমি যেহেতু অনেক দেরিতে ওদের কনফার্ম করেছি, তাই ও বার বার বলল “ভাইয়া আপনি এত অল্প সময় দিয়েছেন, কিছুই রান্না করতে পারি নাই”, আঙ্কেল-আন্টি প্রথম বার ওদের বাসায় গেছে, আর ও বেশি কিছু করতে না পারায় অনেক আফসোস করেছিল। ভাগ্যিস দেরিতে কনফার্ম করেছি, এই শর্ট নোটিশে এত কিছু বানাইছে বেশি সময় দিলে ওর কষ্ট আর ও বাড়িয়ে দিতাম।

সীমান্তের বাসার কাছেই একজন বাংলাদেশি ভাই-ভাবি থাকে, আমরা এসেছি শুনে ওনারা ও দেখা করতে আসল। সবাই মিলে অনেকক্ষণ আড্ডা দিলাম।

রাতে আমার কাজ ছিল, ফিরতি পথের পরিকল্পনাটা করা, কিভাবে যাব, বাস, ট্রেন অথবা ফ্লাইট কিসের টিকেট করব। সীমান্ত এর সাথে ও এইগুলা নিয়ে কথা বলতে বলতে রাত যে কখন ২ টা বেজে গেল, খেয়াল নাই। এরপর সীমান্ত ঘুমাই পড়ল, আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে বাসে যাব হামবুর্গ, ওইখানে একরাত থেকে পরের দিন আবার বাসে করে চলে যাব কোপেনহেগেন, এরপর ট্রেনে করে কার্লসক্রোনা। ভ্রমণটা একটু সময়সাপেক্ষ হয়ে গেল, কিন্তু এই শেষমুহুর্তে ফ্লাইটের দাম ছিল আকাশচুম্বী, অযথা এত টাকা অপচয় করতে চাইনি।

ভ্রমনের পঞ্চম দিনঃ (২৪ জুলাই, ২০২৩)

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠার পর, সীমান্ত বলল ওদের ডাক্তারের কাছে যেতে হবে, আগে থেকেই পূর্ব নির্ধারিত এপয়েন্টমেন্ট। আমাকে বলল, ওদের জন্য অপেক্ষা না করে, আমরা যেন নাস্তা করে নেই, ওরা সব রেডি করে রাখছে। আমি বললাম, যদি কোন কারণে ওদের আসতে দেরি হয়, আমাদের চলে যেতে হবে, যেহেতু আমাদের গাড়ি ফেরত দিয়ে এরপর বাস ধরতে হবে। সময়টা সীমিত, তাই আমরা সবাই ওদের থেকে বিদায় নিয়ে নিলাম।

সবাই ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে যখন বের হব, তখন দেখি সীমান্ত চলে এসেছে। বিদায় বেলায় সীমান্তের মনে পড়ল, আমাদের কোন ছবিই তোলা হয়নি। সীমান্ত সবাইকে নিয়ে এই মুহূর্তটাকে ফ্রেম বন্দী করল।

ভাগ্যিস সীমান্তের ছবি তোলার কথা মনে হয়েছিল, নাহলে এই মুহূর্তটা ফ্রেম বন্দী না করার একটা আফসোস থাকত। ধন্যবাদ বন্ধু।

সীমান্তকে বিদায় জানানোর পর যাত্রা শুরু করলাম ফ্রাঙ্কফুর্টের দিকে। ম্যানহেইম থেকে ফ্রাঙ্কফুর্ট এয়ারপোর্টের দূরত্ব হাইওয়ে ধরে গেলে প্রায় ৮০ কিমি, ৫০ মিনিটের মত লাগবে। গুগল ম্যাপ এ রেন্টাল গাড়ি ফেরত দেয়ার জায়গাটা ঠিক করতে গিয়ে দেখলাম দুটো পারকিং দেখাচ্ছে, আমি একটা সিলেক্ট করে রওয়ানা দিলাম। দুর্ভাগ্যবশত আমি ভুল জায়গাটা সিলেক্ট করেছিলাম, পৌঁছানোর পর যখন বুজতে পারলাম, তখন আমাদের বাস আসার ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের মত বাকি আছে। সবার মধ্যেই একটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। আন্ডারগ্রাউন্ড পারকিং টাতে একজনকে দেখলাম, মধ্যপ্রাচ্যের কোন একটা দেশের হবেন। আমি গাড়ি থেকে বের হয়ে তার কাছে গেলাম, বললাম আমার গাড়ি ফেরত করবার লোকেশনটা খুঁজে পাচ্ছি না, রেন্টাল কোম্পানির নাম বলতেই সে বলল, আমি সম্পূর্ণ উল্টো পাশের একটা আন্ডারগ্রাউন্ড পারকিংএ চলে এসেছি। সে আমাকে বলল ম্যাপ দেখে বুজবা না, একটু বিভ্রান্তিকর হইতে পারে, আমি তোমাকে নিয়ে যাব। তার হাতে খুব বেশি সময় নাই, তারপরও সে তার নিজের গাড়ি স্টার্ট করে আমাকে বলল, ওনার গাড়িকে অনুসরণ করতে। উনি পথটা অর্ধেক এগিয়ে দিয়ে আমাকে ইশারা দিয়ে বুজিয়ে বললেন এই পথ ধরে যেতে হবে, আমরা তখন মহাসড়কে একারণে এই পরোপকারী ব্যক্তিকে দূর থেকেই ধন্যবাদ জানালাম। বাকি পথটা খুঁজে পেতে আর সমস্যা হয়নি। সৌভাগ্যবশত আল্লাহ্‌ আমাদের জন্য তাকে ত্রাণকর্তা হিসেবে পাঠিয়েছিলেন, বলেই ১০মিনিটের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হয়ে গেল, আলহামদুলিল্লাহ্‌।

এখন বাস ষ্টেশন খুজতে হবে। ফ্লিক্স বাসের (Flixbus ) টিকেট কেটেছিলাম, ইউরোপের সবচেয়ে বড় বাস নেটওয়ার্কটি এই জার্মান কোম্পানির দখলে। ইউরোপে ট্যুর দিলে, বেশির ভাগ দেশেই এই বাস কোম্পানির সার্ভিস পাওয়া যাবে। বাস সার্ভিসটি সাশ্রয়ী মূল্যের এবং আরামদায়ক হওয়ায়, বেশির ভাগ পর্যটকরাই এর সার্ভিস গ্রহণ করে থাকেন। কোন কমিশন পাব না, এমনি ফ্রি বিজ্ঞাপন করে দিলাম 😛, কারণ ফ্লিক্সবাস আসলেই ভাল সার্ভিস দেয়।

যাই হোক, বাস ষ্টেশন খুঁজে পেতে একটু বেগ পেতে হল, এয়ারপোর্ট থেকে ১৫/২০ মিনিট হাঁটা দূরত্ব। ম্যাপ এ খুঁজে পাইনি, মানুষ থেকে জিজ্ঞেস করে যখন পৌছালাম তখন বাস আসার আর ৩০ মিনিট বাকি। এই বাস ষ্টেশনে কোন প্লাটফরম নাম্বার দেয়া ছিল না, তাই কোন বাস আসলেই আমরা চেক করে দেখছিলাম সেটার গন্তব্য কোথায়। অবশেষে আমাদের বাস আসল, আমরা হামবুর্গ এর দিকে যাত্রা শুরু করলাম। ভেবেছিলাম যেহেতু অনেক দীর্ঘ যাত্রা, আমাদের অনেক ক্লান্ত আর বিরক্ত লাগবে, কিন্তু দুই পাশের সুন্দর দৃশ্য দেখতে দেখতে সময়টা ভালই কাটল। অবশ্য আম্মুর কষ্ট হয়েছিল, কারণ অনেকক্ষণ বসে থাকলে বাতের কারণে আম্মুর পা ফুলে যায়। যাত্রাপথে দুইবার বিরতি দিয়েছিল, বিরতির সময় দুপুরের খাবার কিনে নিয়েছিলাম।

হামবুর্গের যে হোটেলটা বুকিং করে রেখেছিলাম, ওইটা হামবুর্গের সেন্ট্রাল বাস ষ্টেশনের খুব কাছে। হামবুর্গ পৌঁছে হোটেলে যেতে ৭-৮ মিনিট লাগল। হোটেলের রুমে ব্যাগ রেখে, ফ্রেশ হয়ে নিলাম। হোটেলটা হামবুর্গের প্রাণকেন্দ্রে। ফ্রেশ হওয়ার পর আমরা যখন বের হলাম, আশেপাশে তখন ও প্রচুর মানুষের সমাগম। রাতের হামবুর্গ দেখতে খুবই সুন্দর, আমরা কিছুক্ষণ হেঁটে এই শহরটাকে দেখলাম। এরপর যখন ক্ষুধা পেল, তখন একটা রেস্তোরাতে গিয়ে রাতের খাওয়া-দাওয়া সেরে নিলাম।

আজকের দিনটা এইখানেই শেষ করতে হচ্ছে, আর কোথাও ঘুরার সময় অথবা শক্তি কোনটাই নাই। আমার ছোট ভাই যদি ও, আর ও ঘুরতে চেয়েছিল, কিন্তু আব্বু-আম্মুকে রেখে কোথাও ঘুরতে যেতে ইচ্ছা হল না।

ভ্রমনের ষষ্ট দিনঃ (২৫ জুলাই, ২০২৩)

সকাল বেলা উঠে নাস্তা সেরে নিলাম, এরপর হামবুর্গ ঘুরে দেখার জন্য “Hop on hop off” বাসের টিকেট কাটলাম। আমার কাছে “Hop on hop off” বাসের এই ধারণাটা খুবই ভাল লাগে। বেশির ভাগ ঐতিহাসিক শহরেই এই বাস সার্ভিস পাওয়া যায়। কোন একটা শহরে বেড়াতে গেলেন, আর আপনার সময় সীমিত, তখন এই সার্ভিসটি নিতে পারেন। আমরা হামবুর্গের সব ঐতিহাসিক ভবন দেখছিলাম, বোনাস হিসেবে ওরা হেডসেট ও দেয়, যেখানে ইংরেজি সহ আর ও ৪/৫ টি ভাষায় ওই ভবনের ইতিহাস গুলো বর্ণনা করা হচ্ছিল।

বাস ট্যুর শেষ হওয়ার পর, আমরা সেন্ট্রাল ট্রেন ষ্টেশনে গেলাম।

এরপর কয়েকটা শপিং মল ঘুরে দেখলাম, কিছু কেনাকাটা করলাম।

দিনটা সুন্দর ভাবে শেষ করলাম। এখন বাড়ি ফেরার পালা।

হামবুর্গ থেকে ফ্লিক্সবাসে (Flixbus ) কোপেনহেগেন যাব। কোপেনহেগেন যাওয়ার পথে মাঝের কিছুটা পথ বাস ফেরি দিয়ে পার হল। ওই ব্রেক এ আমরা ফেরিটা ঘুরে দেখলাম।

কোপেনহেগেন এয়ারপোর্টে পৌঁছে ওইখান থেকে ট্রেনে চলে আসলাম কার্লসক্রোনা। অবশেষে আমাদের দীর্ঘ অভিযাত্রার পরিসমাপ্তি ঘটল। এতক্ষন পর্যন্ত ধৈর্য ধরে লিখাটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

=================================================================

If I summarize the key things we did each day:
Day 1: 20th July, 2023

Key things:\

  • Cruise from Karlskrona, Sweden to Gdynia, poland.

Day 2: 21st July 2023
Key things:\

  • Rented a Car (KIA Sportage 2022) for 8 hours, from Gdansk airport.\
  • Took a train from gdansk to warsaw

- Stayed in Hotelik - Modlin hotel, warsaw

Day 3: 22nd July 2023
Key things:\

  • Flight from Warsaw to cologne-bonn airport Germany (Sat, 22 Jul 23).\
  • Took a bus from Cologne-bonn airport flix bus terminal to Frankfurt airport\
  • Rented a car (MG SUV 2022) for 2 days from Frankfurt airport.\
  • Bought a suitable type-c to lightning cable and power bank from a mall, for the car journey from Frankfurt, Germany to Strasbourg, France. It was a high-speed journey; all three passengers and I were pumped with adrenaline. I was really worried about everyone’s safety.

- Stayed the night at Kyriad Direct hotel.

Day 4: 23rd July, 2023.
Key things:\

  • Roam around the historical strasbourg city\
  • Then, we went to Scenic Heidelberg city.\
  • From Heidelberg we went to meet my friend Simanto and his family.

- Stayed at their place, he was unwilling to let us go.\

  • Planned our return journey.

Day 5: 24th July, 2023.\

  • Returning the car to Frankfurt airport, that was hectic. We mistakenly went to the wrong return location, we did not have much time left to catch our next bus from Frankfurt airport to Hamburg, so we were rushing. Finally, we found a guy who was our messiah, who saved us. He agreed to show us the shortcut way to go to the return location. I had to drive like a racer until I reached the top of the parking building. It was a round road which led to the top floor exit to the main road. Finally, we returned the car and went to catch our bus. Fortunately, we finished everything and we had some time left before our bus came.\
  • Stayed at Generator hostel, Hamburg.

Day 6: 25th July, 2023.\

  • Morning we bought tickets for hop on hop off bus. It was fun and exciting.

- We took a bus from Hamburg to Copenhagen.

- From Copenhagen we took a train to Karlskrona.